বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী কয়টি

 বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী কয়টি



বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী তিনটি শাখায় বিভক্ত:


1. বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (Bangladesh Army)  

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (Bangladesh Army) বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান শাখা এবং দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ। এটি দেশের স্থলভাগে সামরিক অপারেশন পরিচালনা করে এবং দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব পালন করে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনী থেকে উদ্ভূত হয়ে, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। 


মূল দায়িত্ব:

1. দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা**: দেশের স্থলভাগের সীমানা রক্ষা এবং যে কোনও বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধ করা।

2. জাতীয় নিরাপত্তায় সহায়তা**: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা মোকাবিলা এবং জাতীয় উন্নয়নে সহায়ক কার্যক্রম পরিচালনা।

3. আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় অংশগ্রহণ**: জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে সক্রিয় অংশগ্রহণ।


বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গঠন:

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পদাতিক, সাঁজোয়া বাহিনী, আর্টিলারি, প্রকৌশল বাহিনী, সিগন্যাল কর্পস, এবং অন্যান্য বিভিন্ন শাখা রয়েছে। 


ইতিহাস:

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত হয়, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আধুনিক সামরিক বাহিনীতে রূপ নেয়।

2. বাংলাদেশ নৌবাহিনী (Bangladesh Navy)

বাংলাদেশ নৌবাহিনী (Bangladesh Navy) বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যা দেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চল সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করে। এটি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং স্বাধীনতা অর্জনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয়।


প্রধান কার্যক্রম:

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান কার্যক্রমগুলির মধ্যে রয়েছে:

1. সমুদ্রসীমা সুরক্ষা:  দেশের সমুদ্রসীমা ও মেরিটাইম সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।

2. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ।

3. বাণিজ্যিক নৌপথ নিরাপত্তা: দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলির জন্য নিরাপদ পথনির্দেশনা প্রদান এবং দস্যুতা প্রতিরোধ।

4. আন্তর্জাতিক মিশনে অংশগ্রহণ: জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক মিশনে অংশগ্রহণ।

5. মেরিটাইম নিরাপত্তা এবং দস্যুতা প্রতিরোধ।


 বাহিনীর কাঠামো:

বাংলাদেশ নৌবাহিনী বিভিন্ন ধরণের যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, ফ্রিগেট এবং অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র দ্বারা সজ্জিত। এছাড়া, নৌবাহিনী বিভিন্ন ধরনের বিমান ও হেলিকপ্টার পরিচালনা করে যা নৌ-অভিযানে সহায়তা করে। 


লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।

  


3. বাংলাদেশ বিমানবাহিনী (Bangladesh Air Force) 

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী (Bangladesh Air Force) বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর আকাশ শাখা। এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আকাশপথের নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য দায়ী। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং এরপর থেকে এটি ক্রমাগত আধুনিকায়নের মাধ্যমে শক্তিশালী ও দক্ষ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।


প্রধান কার্যক্রম:

1. আকাশ প্রতিরক্ষা: আকাশসীমার সুরক্ষা ও নজরদারি।

2. আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা: আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক বিমান চালনা এবং অপারেশন।

3. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:  প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য বিপর্যয়ে মানবিক সহায়তা প্রদান।

4.  শান্তিরক্ষা মিশন: জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ।

   

 প্রশিক্ষণ ও আধুনিকায়ন:

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী সদস্যদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দেয় এবং বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে নিজেদের সজ্জিত করে, যাতে তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।

এই তিনটি শাখাই মিলে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী গঠন করে।



More.................

Post a Comment

0 Comments